মরীচিকা – পর্ব ০১

0

দিপু খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন।আজ একটু ব্যাতিক্রম হয়েছে,ঘুম থেকে উঠে দেখছে সকাল ৯.১৬! রাতে মুভি দেখতে বসার কারণে তার এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ফ্রেশ হয়ে হাতে চায়ের কাপ টা নিয়ে বারান্দায় গিয়ে আকাশ দেখা তার নিত্যদিনের অভ্যাস কিন্তু আজ কেন যেন আকাশ টা ভাল লাগছে না! দিপু ভাবছে, ‘হয়তো বেশ দেরীতে আকাশের কাছে আসার কারণে আকাশও তার সেই রুপ দিপুকে প্রদর্শন করছে না!’ সব কিছুর আসলে একটা সময় থাকে, সময় গড়ানোর সাথে সাথে রুপ বদলে যায়।
খুব দ্রুত রেডি হয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হলো দীপু।
উত্তর দিকে একটু এগিয়ে বামের রাস্তা দিয়ে একটু ভেতরে গেলেই দিপুর অফিস,সময় সংকীর্ণতার কারণে দিপু রিক্সা ডাকলো।
এই মামা,যাবেন?
হু যামু। কই যাবেন?
শেওলাপাড়া মসজিদের পেছনেই নামবো, কত?
-২০ ট্যাকা!
সময় সংকীর্ণতার কারণে কথা না বাড়িয়ে উঠে পড়ল।
রিক্সাওয়ালা মনে হয় কিভাবে যেন বুঝতে পারে এই লোকের দ্রুততা আছে,সঠিক সময়ে ভাড়া বাড়িয়ে চায়!

অফিসে ঢুকতেই আজকাল দিপুর মন টা হটাৎ ই খারাপ হয়ে যায়। কয়েকদিন হলো অফিসে নতুন জয়েন করা এক মেয়ে অতন্দ্রিতার কন্ঠ আর তার গায়ে মাখা পারফিউম তাকে তাড়া করে বেরাচ্ছে.. মাঝে মাঝে দিপুর মনে হয় অতন্দ্রিতার ডেক্সটা যদি পাশে থেকে সরিয়ে দূরে কোথাও দেওয়া যেত মন্দ হতো না।
এই মেয়ে যখনই কথা বলে তার কন্ঠে দিপু ফিরে যায় ৫ বছর আগে।
তার চোখের সামনে ভাসতে থাকে দিন গুলো।খুব চেষ্টা করেও কাজে মন দিতে পারে না দিপু! দিপু কেমন যেন আনমনা হয়ে যায়।মানব মস্তিষ্ক বড়ই জটিল গড়নের।কোন এক গানের সুর,কোন শব্দ,গন্ধ,স্পর্শ, দৃশ্য ব্যাক্তিকে খুব দ্রুত খুব পরিচিতি অতীত বা ভবিষ্যৎ এ দেখিয়ে নিয়ে আসে।।

৫ বছর আগে যেই কন্ঠ প্রতিদিন কানে বাজতো সেই কন্ঠ আজ আবার দিপুর কানে বাজছে। মনে হচ্ছে কানের কাছে মৃদুলা এসে আগের মত বলছে, ‘ এই চলো না আজ কোথাও ঘুরে আসি।আজ ছুটি দাও না তোমার টিউশনি আজ আমি তোমার ছাত্রী হবো আর তুমি হবে মাস্টার মশাই! তারপর বাকা ঠোঁটের সেই হাসিটা’

মৃদুলার কথা মনে হলেই দিপুর ভেতরটা কেমন যেন হু হু করে উঠে!পাতলা ঠোঁট, স্বরসতীর মত চোখ,কপালে ছোট এক লাল টিপ আর ঠোঁটের কোণের সেই তিলটা।

যেদিন শেষ দেখা হয়েছিলো সেই দিন মৃদুলার গায়ে হলুদ ছিল।
সেইদিনের সেই হাতে হলুদ আর লাল রং এর চুড়ির মিশ্রণ আর হলুদ শাড়ি।ভীষণ সুন্দর দেখাচ্ছিলো, মনে হচ্ছিলো ‘হলুদ পরী’।
ভেজা চোখের মৃদুলা,ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না আর বলা,’ শোন! আমি মরে যাচ্ছি দিপু,আমি আর কোন দিন হাসতে পারবো না বলে জানো,আর কোন দিন তোমার টিউশনি মিস করাবো না।’
দিপু সেই দিন শুধু বলেছিলো,আচ্ছা!
সব যেন চোখে ভাসছে দিপুর।

হটাৎ অতন্দ্রিতার কন্ঠ!
এই যে দিপু সাহেব,চলেন ক্যান্টিন থেকে ঘুরে আসি।আজ আমি আপনি আমাকে চা খাওয়াবেন।
দিপু শুধু মাথা নাড়িয়ে বললো, না আজ না অন্য দিন।
অতন্দ্রিতা বলল,উনার শুধু অন্য দিন!! হুহ!

অতন্দ্রিতা চলে যাবার পর দিপু ছুটি নিয়ে বেড়িয়ে গেলো অফিস থেকে..
বাইরে কড়া রোদ উঠছে,কাঠাল পাকার গরম বলে একটা কথা আছে গ্রামে.. ঠিক সেইরকম।

দিপুর ছুটে যেতে ইচ্ছা করছে অজানায়,ভেতর থেকে এক ভীষণ কান্না আসছে।মনে হচ্ছে এই মুহুর্তে যদি মৃত্যু আসতো ভালই হতো।মস্তিষ্ক তার স্মৃতির খেলায় বেশ ব্যস্ত হয়ে উঠে মাঝে মাঝেই!নানা ভাবে মানুষকে আন্দোলিত করে বেশ কিছু সময়।
চোখের সামনে, কানের কাছে মৃদুলার কান্নার ভেজা চোখ আর কান্না ভেজা কন্ঠ।আশে পাশের সবাইকে কেন যেন মৃদুলা মনে হচ্ছে! সব কিছু দিপুকে যেন পাগল করে তুলেছে।
দিপুর সকল কোলাহলের মাঝেও দাড়িয়ে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করছে,’ মৃদুলা আমি চাকরি পেয়েছি! সব মিলিয়ে ৩৬ হাজার টাকা মাসে,তোমার জন্য ছাদে ফুলের বাগান করে দিয়ে ছোট্ট এক সংসার সাজানো যাবে এখন মৃদুলা!!তুমি কি শুনতে পাও!’

লেখক: বিপ্লব আহমেদ, রাজশাহী কলেজ।

 

Like Our Facebook Page: https://www.facebook.com/bdjobnubd

Join Our Facebook Group: https://www.facebook.com/groups/509212529652915/