পড়তে বসলে ঘুম পায় কেন ? মুক্তির ৮ উপায়।

পড়তে বসলে ঘুম পায় কেন ? ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে চাকরি প্রত্যাশীদের পড়াশোনার পথে সবচেয়ে বড় যে বাধা হিসেবে কাজ করে সেটা হল পড়তে বসলেই ঘুম পায় এবং অলসতায় সে আঁকড়ে ধরে। আপনি যতই পরিশ্রম এবং মেধাবী হন না কেন, এরকম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে হয়েই থাকবেন। 

পড়তে বসলে ঘুম পায় কেন

তাই আজকে আমরা কয়েকটি উপায় সম্পর্কে আলোচনা করেছি যেগুলো অবলম্বন করলে আপনি পড়তে বসলে ঘুম পায় কেন এই বিষয়টি খুব সহজেই সমাধান করতে পারবেন। 

পড়তে বসলে ঘুম পায় কেন

১। বিছানায় বসে পড়া বন্ধ করুন

আমরা বাঙালিরা এমনিতেই ঘুম প্রিয়। তাছাড়া বিছানার কথাটা মাথায় আসলেই আমাদের মনে হয় এখন একটু ঘুমাতে হবে। তাই যদি আপনি বিছানায় বসে পড়াশোনা করতে থাকেন তাহলে স্বভাবতই আপনার মনে হবে বিছানায় নিজের গা এলিয়ে দিতে। এতে করে ঘুম আপনাকে চেপে ধরবে। তাই বিছানায় বসে পড়া বন্ধ করুন।

২। পর্যাপ্ত ঘুমিয়ে নিন

প্রতিদিন একজন সুস্থ মানুষের জন্য কমপক্ষে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর অপরিহার্য। যদি আপনি প্রতিদিন এরকম সময় ঘুমান তাহলে স্বভাবতই পড়াশোনা শুরু করলে আপনার ঘুম ঘুম ইচ্ছে করবে। তাই সারা দিনে আপনি নিশ্চিত করুন যে আটঘন্টা ঘুমিয়েছেন। 

৩। জোরে পড়ুন

পরীক্ষার হলে জোরে জোরে পড়া একটা বদভ্যাস হলেও পড়াশোনার সময় এটা সর্বোত্তম অভ্যাস বলে পরিগণিত হয়। এমন কি এটা আমার নিজের সাথেই পরীক্ষিত একটা বিষয়। আমি যখন মনে মনে পড়ি তখন শরীরে কেমন জানি একটা ঝিমুনী ভাব চলে আসে। কিন্তু এই সমস্যা থেকে কাটিয়ে উঠতে জোরে পড়া আমাকে প্রচন্ড সাহায্য করেছে। তাই যতটা সম্ভব উচ্চশব্দে পড়াশোনা করুন। 

তাছাড়া আপনি যখন উচ্চশব্দে পড়াশোনা করবেন তখন আপনার চোখ যেটা করছে সেটাই আপনার কান শুনছে। আর এই দুইটার সমন্বয়ে আপনি যে পড়াশোনা করবেন সেটা দীর্ঘ সময় ধরে আপনার মস্তিষ্কে গেঁথে থাকবে। তাই উচ্চশব্দে পড়া শুধু ঘুম নয় বরং দীর্ঘ সময় পড়া মনে রাখতে সাহায্য করে। 

এই পৃথিবীতে পড়াশোনা ভালো লাগে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু আপনার সফলতার উচ্চতায় পৌঁছাতে হলে পড়াশোনা ব্যতীত আপনার অন্য কোন উপায় নেই।

৪।শারীরিক ব্যায়াম

পড়তে বসে আপনার যদি ঘুম ঘুম ভাব চলে আসে তাহলে আপনি সাময়িক সময়ের জন্য শারীরিক ব্যায়াম করে নিতে পারেন। এই ধরুন আপনি ঘরের মেঝেতে কয়েকবার বুকডাউন দিলেন অথবা দাঁড়িয়ে থেকেই পাঁচ মিনিট ধরে দৌড়ালেন। এতে করে আপনার শরীরে খুব দ্রুত এনার্জী ফিরে আসবে। আর নিমেষেই আপনার শরীর থেকে ঘুম উধাও হয়ে যাবে।

সর্বশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলো

৫। টার্গেট ফিক্স করুন

বিরামহীন ভাবে শুধু পড়েই চলছেন এতে করে আপনার পড়াশোনা কতটুকু কার্যকারী হচ্ছে সেটা একটা ভাববার বিষয়। অলসতা এবং ঘুম কাটিয়ে উঠতে একটা টার্গেট ফিক্স করুন যে আমাকে এত টুকু পড়া শেষ করতে হবে। আপনার টার্গেট নিয়ে আপনার মাথায় যখন চাপ থাকবে তখন সেটা ঠিক শারীরিক ব্যায়ামের মতোই কাজ করবে ঘুম তাড়াতে।

৬। লিখুন

শুধু পড়েই চলেছেন শুধু করে চলেছেন এতে করে অনেক সময় মনোযোগে বিঘ্ন ঘটতে পারে। টাই পরতে পরতে লেখার অভ্যাস আপনাকে এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে। তাছাড়া একটা বিষয় পড়া এবং যদি লেখা হয় তাহলে মনোযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সেটা আমাদের মস্তিষ্কে দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী থাকে।

৭। চেয়ার টেবিলে বসে পড়ার চেষ্টা করুন

সবকিছুর ক্ষেত্রে পরিবেশ একটা প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে এর কোন ব্যতিক্রম হয়নি। বিছানায় বসে বা শুয়ে আপনি যত মনোযোগ সহকারে পড়তে পারবেন চেয়ার টেবিলে বসে পড়লে তার চেয়ে অনেক ভাল হবে আপনার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবেন। তাই চেষ্টা করুন সবসময় চেয়ার টেবিলে বসে পড়া। 

৮। বিরতি দিন

একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর আপনার পড়ার ঘরের বাইরে গিয়ে হেঁটে আসুন। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে চা-কফির বিরতি বা হাঁটাহাঁটি আপনাকে পড়াশোনার একঘেয়েমি থেকে মুক্তি দেবে। এতে করে পড়ার সময় ঘুম বা অলসতা বলে কোন কিছুই আপনার আশে পাশেও আসতে পারবে না।

পরিশেষে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে এই পৃথিবীতে পড়াশোনা ভালো লাগে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু আপনার সফলতার উচ্চতায় পৌঁছাতে হলে পড়াশোনা ব্যতীত আপনার অন্য কোন উপায় নেই। আরে থেকেই পড়াশোনা আপনার দায়িত্ব এবং কর্তব্যে পরিণত হয়েছে। 

সুতরাং পৃথিবীর যত বাধাই আসুক না কেন সবকিছু পার করে পড়াশোনা আপনাকে করে যেতেই হবে। অন্য কোন পথ নেই আপনার জন্য। এরকম চিন্তা ভাবনা মাথায় রাখতে পারলে খুব সহজেই সকল বাধা অতিক্রম করা সম্ভব।

আশা করি পড়তে বসলে ঘুম পায় কেন এর উত্তর পেয়ে গেছেন।

শেয়ার করে রাখুন

Leave a Reply